গোলাম আযমের বিচার ‘অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ’, বিচারপতিরা ছিলেন পক্ষপাতদুষ্ট

একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের মূলহোতা গোলাম আযমের বিচার প্রক্রিয়াকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
শুক্রবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জামায়াতে
ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের বিচারের প্রক্রিয়া ‘খুবই ক্রটিপূর্ণ’ এবং এটি ‘আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বচ্ছ বিচারের যে মানদণ্ড রয়েছে তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে’।
একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষকে দমনের জন্য পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে শান্তি বাহিনী ও রাজাকার বাহিনী গঠন, এগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা, মানবতাবিরোধী অপরাধে উসকানি, সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততা, হত্যা এবং চরম নির্যাতনের দায়ে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ২০১০ সালের মার্চে অভিযোগ গঠন করেন। গত মাসের ১৫ জুলাই গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। অপরাধ মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য হলেও বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তা দেয়া হয়নি বলে উল্লেখ করেন ট্রাইব্যুনাল। তবে গত ১২ আগস্ট গোলাম আযমের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
এইচআরডব্লিউ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড অ্যাডাম বলেন, ‘১৯৭১ সালে সংঘটিত জঘণ্য মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের শাস্তি এবং আন্তর্জাতিক মানের বিচারের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতনের শিকার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের একটি অর্থপূর্ণ ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দীর্ঘদিন ধরেই এই বিচার সমর্থন করেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আগেই আইন এবং বিচার প্রক্রিয়া ক্রটিপূর্ণ বলে সরকারকে জানিয়েছি। কিন্তু সরকার তা উপেক্ষা করেছে। তারা দোষীদের ধরতে পেরেছে কিন্তু একটি স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।’
      
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারের সময় প্রসিকিউশনের তদন্তে যেসব জায়গায় ঘাটতি ছিল বিচারকরা সেসবের তদন্ত করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু এটি ইন্টারন্যাশনাল কভেনান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটের (নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক সনদ ) ১৪ নম্বর ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কারণ, বিচারকদের কোনো মামলার তদন্তে জড়িত হওয়ার অধিকার নেই। নিয়ম অনুযায়ী, তারা শুধু একটি মামলায় উভয়পক্ষ যে প্রমাণাদি পেশ করবে তা যাচাই করেই রায় দেবেন।
   
এছাড়া স্কাইপে কেলেঙ্কারি কিংবা ইকোনমিস্ট পত্রিকায় বিচারক এবং রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিদের মধ্যে যোগাযোগের ব্যাপারে যে অভিযোগ রয়েছে সেটি নিয়েও আইসিটি কোনো সদুত্তর দেয়নি বলে মন্তব্য করেছে এইচআরডব্লিউ-বাংলামেইল
 

Powered by Blogger.