এবার টুইটে তসলিমার অশ্লীল বিতর্ক

বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের মাথাটাই সম্ভবত খারাপ হয়ে গেছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন দুই বাংলার বরেণ্য লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। তাকে নিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষিতেই তিনি কথাটা বলেছিলেন। তার সেই কথাটা যে আংশিকভাবে হলেও সত্য তা প্রমাণিত হয়েছে তসলিমা নাসরিনের সাম্প্রতিক একটি ট্ইুট মন্তব্যে। সেই টুইটে যে ভাষায় তিনি একজন সাংবাদিককে আক্রমণ করেছেন তা তার মতো একজন নারীবাদী লেখিকার কাছে মোটেই প্রত্যাশিত ছিল না। তার টুইট মন্তব্যে যেভাবে তিনি অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেছেন তা নিয়ে প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তার গুণমুগ্ধ ভক্তরাও তসলিমার সাম্প্রতিক টুইটের ভাষা নিয়ে ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে। নিজেকে যিনি স্পষ্টবাদী ও সত্যের পক্ষে বলে দাবি করেন তিনি সামান্য সমালোচনা শোনার মতো ধৈর্যও হারিয়ে ফেলেছেন। আর তাই সদ্য প্রকাশিত ও মিঠুন চক্রবর্তী সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘খবরের কাগজ’-এ সাংবাদিক অভিজিৎ ঘোষের
একটি লেখার জবাবে তসলিমা নাসরিন শালীনতার সব গণ্ডি ছাড়িয়ে লিখেছেন, কলকাতায় ‘খবরের কাগজ’ পত্রিকায় অভিজিৎ ঘোষ নামে একটা নারীবিদ্বেষী, বদমাস, ইডিয়ট লেখে। এটা কোনভাবেই একজন লেখিকার ভাষা হতে পারে না বলেই মনে করেন কলকাতার সচেতন সাহিত্যমনস্ক মানুষ। আর একটি স্যোসাল নেটওয়াকিং সাইটে এ ধরনের ভাষা ব্যবহারও অনৈতিক বলে মনে করেন সোস্যাল নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীরা। বিশিষ্ট লেখিকা সুচিত্রা ভট্টাচার্য তো এ ধরনের নোংরা নিয়ে মন্তব্য করতেই রাজি হননি। বিশিষ্ট কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তসলিমার টুইটকে ব্যাড টেস্টেও পরিচয় বলে উল্লেখ করেছেন। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই সাংবাদিক অভিজিৎ ঘোষ জানিয়েছেন, তিনি তসলিমা বনাম সুনীল শিরোনামে সাপ্তাহিক ‘খবরের কাগজ’-এ যে লেখাটি লিখেছেন তাতে কোনভাবেই তসলিমার সম্পর্কে কোন মন্তব্য করা হয়নি। তবে বিশিষ্ট ও সম্মানীয় লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ১২ বছর আগের একটি যৌন নির্যাতনের যে অভিযোগ তুলে তসলিমা প্রচারের আলোয় এসেছেন সেটি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আর অনেকের মতোই সাংবাদিক অভিজিৎ ঘোষ প্রশ্ন করেছিলেন যে, তার মতো একজন নারীবাদী কেন ঘটনাটি সেই সময় বললেন না। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে সব রকম রুচির গণ্ডি ছাড়িয়ে অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ করেছেন সাংবাদিককে। এদিকে বিশ্বজুড়ে বিতর্কের আগুন জ্বেলেছে যে চলচ্চিত্রটি সেটি নিয়েও তসলিমা মন্তব্য করেছেন তার টুইটারে। তিনি হিংসার নিন্দা করেছেন। তবে বলেছেন, ইনোসেন্স অব মুসলিমস ছবিটি খুবই খারাপ ছবি। একজন বাজে পরিচালক ছবিটি তৈরি করেছেন। তবে তসলিমার মন্তব্য, খারাপ পরিচালকের খারাপ ছবি বানাবার অধিকার রয়েছে। তাই বলে সেই খরাপ ছবি নিয়ে হিংসার আগুন জ্বালানোর কোনও অধিকার কারও নেই। তসলিমা একটি টুইটে আবার মন্তব্য করেছেন, ইজরায়েলি পতাকা পোড়ানো হচ্ছে কেন? পরিচালক তো মিশরীয়। তাই মিশরের পতাকা পোড়ানো হোক। একটি টুইটারে তসলিমা মন্তব্য করেছেন, মুসলিমদের যদি আলোকিত এবং সহনশীল করতে চাই তবে ইসলামের সমালোচনা করে আরও বই লেখা হোক, আরও ছবি তৈরি হোক, আরও ছবি আঁকা হোক।

Powered by Blogger.