সোনালী ব্যাংক থেকে ঋণ জালিয়াতি-চিৎকার না করলে ভাল করে ডান্ডা দেয়া যেত : অর্থমন্ত্রী


সোনালী ব্যাংক থেকে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাত করা সাড়ে হাজার কোটি টাকার মধ্যে অন্তত হাজার কোটি টাকা হলমার্ক গ্রুপের কাছ থেকে আদায় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি কথা জানান
ঋণের অর্থ উদ্ধার করাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য- কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় জড়িতদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে। তবে গণমাধ্যমের চিৎকারের কারণে বাকি টাকা আদায় করা এখনও নিশ্চিত হয়নি।
আজ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, অনিয়মের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক থেকে সরিয়ে ফেলা সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার মধ্যে অন্তত দুই হাজার কোটি টাকা শিগগিরই আদায় হচ্ছে। তবে বাকি টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের চিৎকারের কারণে সমস্যা হচ্ছে। সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে তিনি বলেন, তোমাদের পাবলিসিটি একটু কম হলে বোধহয় টাকাটা আদায় হয়ে যেত পুরোটাই। কিন্তু এখন জানি না। বাকিটা নিয়ে তোমাদের চিৎকারে অসুবিধা হচ্ছে। চিৎকার না করলে ভাল করে ডান্ডা দেয়া যেত।
মন্ত্রী বলেন, চিৎকার হলে তারা বলে, আমরা কোর্টে যাব।
কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের দুষ্টুলোক উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের শাস্তি দিতে হবে।
৪০০০ কোটি টাকা ঋণ কিছুই না গতকাল দেয়া এই বক্তব্যের সমর্থন করে মুহিত বলেন, আমি এখনও বলছি চার হাজার কোটি টাকা কিছুই না। আমি গত বছর ৪০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছি। চার হাজার কোটি টাকা কতো?
পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন প্রসঙ্গে আবদুল মুহিত জানান, বিশ্বব্যাংককে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভীকে আবারো যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হতে পারে
এর আগে সচিবালয়ে আন্তজার্তিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী
প্রসঙ্গত, সোনালী ব্যাংকের হোটেল রূপসী বাংলা শাখা থেকে হলমার্ক গ্রুপের হাজার ৬৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনাসহ প্রায় হাজার কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে একটি চিঠি দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর্থিক জালিয়াতি রোধে ব্যর্থতার দায়ে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে দেয়ার সুপারিশ করেন গভর্নর
তবে ২৮ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী জানান, সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে দেয়ার বিষয়ে সুপারিশ করার এখতিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেই
কেলেঙ্কারির জন্য দায়ী সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ৩২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২৯ আগস্ট শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। একই সঙ্গে টাকা উদ্ধারে হলমার্কসহ দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মামলারও প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে

Powered by Blogger.